কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে নগরীর আড়ংঘাটা থানাধীন তেলিগাতী ফাইজার ডেইরি ফার্মে কোরবানির গরু ওজনে বিক্রি হচ্ছে। শতভাগ দেশি এবং শাহীওয়াল প্রজাতির গরু ৫শ’ টাকা এবং জার্সি প্রজাতির গরু সাড়ে ৪শ’ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সম্পূর্ণ গরু স্কেলে ওজন দিয়ে কেজি হিসেবে মূল্য নির্ধারিত হবে। ক্রেতা পছন্দকৃত গরু অগ্রিম ২০ হাজার টাকা দিয়ে বুকিং করতে পারবেন। সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধপূর্বক ক্রেতার ইচ্ছানুযায়ী গরু বিনা খরচে বাড়ি পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ওজনে গরু ক্রয়ে অনেক মানুষ আগ্রহী হচ্ছেন বলে জানা গেছে। প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রেতারা ওই খামারে পছন্দের গরুর খোঁজে আসছেন। ইতোমধ্যে ফার্মের ২১টি গরুর বুকিং সম্পন্ন হয়েছে।
নগরীর খালিশপুর ২নং নেভিগেট থেকে পছন্দের গরুর খোঁজে আসা বিল্লাল শেখ বলেন, ‘ফার্মের সবগুলো গরু খুবই স্বাস্থ্যবান। দেখতে খুবই সুন্দর। বড়ো বড়ো সাইজের গরু। এগুলো বড় পার্টি ছাড়া কিনতে পারবে না। সাড়ে ৪শ’ টাকা আমাদের কাছে একটু দাম বেশি হয়ে যায়। কম হলে ভালো হতো।’
জানা গেছে, খামারের মালিক কোরবানির ঈদে বিক্রির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন জেলা থেকে বাছাইকৃত সতেজ এবং কম বয়সি গরু ক্রয় করেন। এরপর সেগুলোকে সযত্নে এক থেকে তিন বছর লালন পালন করেন। নিজের ঘেরের পাড়ের উৎপাদিত কাঁচা ঘাস এবং ভূট্টার পাউডার মিশ্রিত সাইলেস তৈরি করে ড্রামে ভর্তি করে রাখেন। সারা বছর এই অর্গানিক খাবার সাথে কুড়া গরুগুলোকে প্রতিদিন শিডিউল অনুযায়ী খাওয়ান। খামারে বর্তমানে বিক্রির উপযোগী ১০৩টি গরু রয়েছে। এর মধ্যে শতভাগ দেশী প্রজাতির ২৫টি, জার্সি প্রজাতির ২৫টি ও বাকি ৫৩টি শাহীওয়াল প্রজাতির। গরুগুলোর ওজন সর্বনিম্ন ৩০০ কেজি থেকে সর্বোচ্চ ১০৬৮ কেজি।
খামারের মালিক মোস্তাফিজুর রহমান খুলনা গেজেটকে বলেন, ‘৮ বছর থেকে খামারটি পরিচালনা করে আসছি। বর্তমানে খামারে ১০৩টি গরু আছে। গরুগুলো যথেষ্ট স্বাস্থ্যবান। খামারের সবচেয়ে বড়ো গরু ‘লালবাহাদুর’। ওজন ১০৬৮ কেজি। লাল টকটকে রং। ইতোমধ্যে এক শিল্পপতি বুকিং দিয়ে রেখেছেন। শান্ত শিষ্ট হলেও বাঘের মতো দেখতে ফার্মের আরেকটি গরুর নাম রাখা হয়েছে ‘টাইগার’। এটির ওজনও প্রায় সাড়ে ৯০০ কেজি।’
তিনি বলেন, ‘এর আগেও ওজনে কেজি দরে বিক্রি করেছি। স্কেলে তুলে ওজন অনুযায়ী কেজি দরে বিক্রি হবে। মূল্য নির্ধারণও সে অনুযায়ী। প্রতিটা গরুর বুকিং বাবদ অগ্রিম ২০ হাজার টাকা। সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ শেষে ক্রেতা যখনই ডেলিভারি নেবে তখনই আমরা ডেলিভারি দিব।’
তিনি বলেন ‘কোরবানিতে সবগুলো গরু বিক্রির আশা আছে। প্রতিটা গরুর পিছনে প্রতিদিন ৩৫০ টাকা খরচ আছে। লাভ আহামরি হয় না। কিন্তু এখানে ভালোবাসা, ত্যাগ, আনন্দ, তৃপ্তি আছে। মজার একটা পেশা। অবোলা পশু। সে আপনার কথা শুনছে, কথায় সাই দিচ্ছে। এটা খুবই ভালো লাগে।’
খুলনা গেজেট/এনএম

